মুখদ্বারই গৃহের প্রথম শক্তিগত সংস্পর্শ। জেনে নিন, কোন কোন দ্বার-দিকে লক্ষ্মী আকৃষ্ট হন, আর কোন কোন দিকে দোষ আসতে আসে।
- বিষয়
- বস্তু
- পড়ার সময়
- 6 মিনিট
- রচনা করেছেন
- হিলার্স ওয়ার্ল্ড স্টুডিও
- সর্বশেষ হালনাগাদ
- 12 August 2026
মানসার ও মায়ামত শাস্ত্রে মুখদ্বার: শাস্ত্রীয় ভিত্তি
মূল প্রবেশদ্বার — মুখদ্বার বা সিংহদ্বার — সেই প্রধানীয় দ্বারপথ, যার মাধ্যমে বিশ্ব-প্রাণ গৃহের ভেতরে প্রবেশ করে। মানসার ও মায়ামত উভয় শাস্ত্রেই প্রবেশদ্বার নিয়ে উল্লেখযোগ্য অধ্যায় রচিত আছে: মানসার অধ্যায় 14-এ প্রতিটি দেয়ালে কতটি দ্বার রাখা যায়, তাদের প্রস্থ-উচ্চতার অনুপাত, দ্বার-চৌধাঁধ নির্মাণের পদ্ধতি এবং কোন কোন পবিত্র কাঠের জাত ব্যবহার করতে হবে — এসব নির্দিষ্ট করা হয়েছে। মায়ামত অধ্যায় 13-এ দ্বারের ধরনগুলোকে বস্তু মণ্ডলের মধ্যে তাদের পদ-অবস্থান অনুযায়ী ভাগ করা হয়েছে এবং প্রতিটি অবস্থানকে পরিবারের নির্দিষ্ট ফলাফলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বিশ্বকর্মা প্রকাশে দ্বার-সীমানায় অবস্থিত দ্বারপালা — প্রবেশদ্বারের পাশের দেবতা — এবং তাদের যথাযথ স্থাপন-বিধান বিস্তারিত বর্ণিত। প্রবেশ-বিজ্ঞানের ভিত্তিতে যে পঞ্চভূতের কাঠামা রয়েছে তা সরল ও প্রত্যক্ষ: মুখদ্বারই নির্ধারণ করে পঞ্চভূত গৃহের অভ্যন্তরীণ স্থানে কীভাবে প্রবাহিত হবে। পূর্বমুখী প্রবেশদ্বার সূর্য প্রাণকে — সৌর অগ্নি ও আকাশকে — আমন্ত্রণ জানায়, সেই সঙ্গে প্রতিবার দ্বার খোলার সঙ্গে সেই শক্তিকে ভেতরে নিয়ে আসা বায়ুকেও। উত্তরমুখী প্রবেশদ্বার কুবেরের ঐশ্বর্য-শক্তি এবং জল-পৃথ্বী অক্ষকে প্রবাহিত করে। শাস্ত্রগুলো প্রবেশদ্বারকে কেবল স্থাপত্যগত কিছু হিসেবে দেখে নি: এটি একটি যন্ত্র — শক্তি-নির্দেশক যন্ত্র — যাকে শ্রী — ঐশ্বর্য শুভল — এর মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে হলে সঠিকভাবে স্থাপিত, সঠিক অনুপাতে বিবরিত ও সংকীর্ণিত হতে হবে। মানসারে বলা হয়েছে, গৃহকর্তার নিকট এই বিষয়টিকে ভুল করা বস্তু-সংক্রান্ত সবচেয়ে প্রভাববল্ত্ব একটি সিদ্ধান্ত।
Healers World